February 04, 2012

বাংলাদেশী সেরা ১০: সেরা দশ জন আউটসোর্স এক্সপার্ট

সম্পাদকীয় নোট - আমরা আজ থেকে চালু করলাম - "সেরা দশ" সিরিজ। বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরা ১০ জনের তালিকা থাকবে এখানে। প্রথমে শুরু হলো, সেরা ১০ জন আউটসোর্স এক্সপার্টদের তালিকা দিয়ে। বাংলাদেশে তথ্য প্রবাহের পরিমাণ খুবই কম। আমরা যতটা পেরেছি তার ভেতর থেকেই ১০ জনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। পাঠকদের প্রতি অনুরোধ থাকলো, আপনাদের চোখে যদি কাউকে মনে হয় "সেরা ১০"-এ আসতে পারেন, তাহলে দয়া করে আমাদেরকে জানাবেন। আমরা তার ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করে তালিকাভূক্ত করার চেষ্টা করবো। এটা একান্তই আমাদের নিজস্ব তথ্য সংগ্রহের উপর নির্ভর করে করা। এর বাইরেও অনেক ভালো ভালো মানুষ থাকতে পারেন। আমরা আশা করছি, ক্রমান্বয়ে এই তালিকা আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি, এই তালিকাটি আমাদের ২০১১ সালের ইয়ার-বুকেও প্রকাশিত হবে। পাঠকদের যেকোনও ভালো পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে আউটসোর্সিং-এ বাংলাদেশী তরুণরা প্রতিনিয়ত ভালো করছে। বিশ্বের সেরা সব স্মার্টফোনের গেইম থেকে শুরু করে নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হচ্ছে দেশেই। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাগাজিনের ডিজাইনের কাজটিও বাংলাদেশে হচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ কাজগুলো করে নেওয়া হয় ভিন্ন দেশ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে। এ কাজের মাধ্যমেই বর্তমানে দেশের পরিচয় তুলে ধরছে দেশের আউটসোর্সিং এ কাজ করা তরুণরা। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রযুক্তির বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রতিবেদনে যে ৩০টি দেশকে আউটসোর্সিং কাজের সেরা গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশও আছে। এতে শুধুই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের আউটসোর্সিং কাজগুলোই বিবেচনায় এসেছে। এর বাইরেও ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন শহরে বসে বিদেশের কাজ করে ডলারে আয় করছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে ১০ জনকে নিয়ে এ আয়োজন।
তামিম শাহরিয়ার সুবিন
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
মুক্তসফট লিমিটেড
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে ঢাকায় এসে শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করেছিলেন ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের উপর ভিত্তি করে বন্ধুদের সাথে মিলে তৈরি করেছেন ‘মুক্ত সফটওয়্যার লিমিটেড’" নামক একটি সফটওয়্যার কোম্পানি। সেখানে বর্তমানে নয় জন ফুল টাইম ও তিন জন পার্ট টাইম সফটওয়্যার প্রকৌশলী কাজ করছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে তারা বিভিন্ন মোবাইলের অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আউটসোর্সিং কাজ করছেন।
মো. জাকারিয়া চৌধুরী
পরিচালক
ওয়েবক্রাফট লিমিটেড
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার প্রকৌশলীতে পড়াশোনা কালীন সময়েই ওয়েব ডেভেলপমেন্টের সাথে যুক্ত হন। ২০০৬ সালের জুন মাস থেকে সরাসরি আউটসোর্সিং কাজে যুক্ত হন। ফ্রিল্যান্সিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ২০০৭ সালে ‘ওয়েবক্রাফট বাংলাদেশ’" নামে সিলেটে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) কর্তৃক সেরা ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড। ফ্রিল্যান্স বিষয়ে তিনি নিয়মিত http://freelancerstory.blogspot.com সাইটে লিখেন।
মামুনুর রশীদ
পরিচালক
আলফা ডিজিটাল গ্রুপ
পড়াশুনা শেষ করে ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে এবং পরবর্তীতে খুলনায় একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিষ্ট্র্যটর হিসাবে চাকুরী শুরু করেন। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন www.odesk.com, www.freelancer.com এবং www.rentacoder.com -এ সাইটের মাধ্যমে।
প্রথম প্রথম ডাটা এন্ট্রি দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে নানা ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজ করেন। ২০০৯ সালের দিকে পুরোদমে আউটসোর্সিং এর সাথে যুক্ত হন। বর্তমানে কিছু ফিস্কড বায়ারের কাজ করেন তিনি এবং আলফা ডিজিটাল নামে একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
সবুজ কুমার কুন্ডু
ফ্রিল্যান্সার
বুয়েটে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে থেকে কোন ছোট খাট সফটওয়্যার বানানোর চেষ্টা করতেন। চাকুরী ভালো না লাগায় ২০০৮ এ শুরু করেন আউটসোর্সিং।
নিয়মিত আউটসোর্সিংয়ের পাশাপাশি নিজের ব্লগ সাইট www.manchumahara.com -তে লিখেন নিয়মিত। যেখানে নিজের বিভিন্ন প্রজেক্ট রাখেন। অনেক ক্লায়েন্ট তাঁর সাইট দেখে কাজ দিয়েছেন। পরে CodeBoxr.com ব্যানারে কাজ শুরু করেন।
সাব্বির হোসেন
ফ্রিল্যান্সার
আউটসোর্সিং কাজে যুক্ত হন খবরের কাগজে আউটসোর্সিং উপর একটা আর্টিকেল পড়ে।
২০০৩ সালে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে শুরুটা। বর্তমানে নিয়মিত ভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করছেন। পেয়েছেন বেসিস কর্তৃক সেরা ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড।
যিনি ভবিষ্যৎতে নিজ জেলা রংপুরে একটি ফ্রিল্যন্সিং ফার্ম করার চিন্তা করছেন।
হাসান শাহরিয়ার
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
পিক্সেলটেক টেকনোলজিস
আউটসোর্সিংয়ের শুরু করেন ২০০৭ সালে। একটি ডিজাইন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার পর থেকেই জড়িয়ে পড়েন এ কাজে। আউটসোর্সিং এ যারা আগ্রহী তাদের যে কোন সাহায্য করার ক্ষেত্রে আগ্রহী তিনি। এখন একটা কোম্পানি করেছেন, যেখানে ১৫ জনের কর্ম সংস্থান হয়েছে।
ভবিষ্যৎ এ আরো কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করতে চান, বাংলাদেশ এর ভাবমূর্তি বিদেশে উজ্জ্বল করতে চাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে চাই। তিনিও কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বেসিস কর্তৃক সেরা ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড।
আবদুল্লাহ আল জাহিদ
ফ্রিল্যান্সার
ভাইয়ার সুবাদে প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার। সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়েই ছোটখাটো কিছু সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করেন।
ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরু করে শুরুর দিকে পেতেন মাসিক ৫০০ ডলার। অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন কাজ শুরু করি তবে প্রফেশনাল ভাবে কাজ শুরু করেন।
পেয়েছেন বেসিস কর্তৃক সেরা ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড।
মোহাম্মদ আল-আমীন চৌধুরী
ফ্রিল্যান্সার
তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক ছিলো ছোটবেলা থেকেই। আউটসোর্সিং এর সাথে যুক্ত হন ২০০৬ সালের শেষ দিকে।
নিয়মিত ভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের (এসইও) কাজ করেন নিয়মিত ভাবে এবং নিয়মিত ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
তিনিও কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বেসিস কর্তৃক সেরা ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড।
মাহবুব আলম
আলম সফট
কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শেষ করে আইটি অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেসময় কম্পিউটার জগৎ ম্যাগাজিনে আউটসোর্সিং বিষয়ে একটা আর্টিকেল পড়ে এই বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন ২০০৭ সালের শেষের দিকে।
পরবর্তীতে ২০১০ সালে আউটসোর্সিংয়ের জন্য যশোরে নিজস্ব অফিস চালু করেন। বর্তমানে তার অফিসে ১০জন ফুলটাইম ও ২ জন পার্টটাইম হিসেবে কাজ করছে।
এনায়েত হোসেন রাজিব
ফ্রিল্যান্সার
কম্পিউটার সাইন্সে পড়াশোনা শেষ করে আউটসোর্সিং এর কাজ শুরু করেন ২০০৫ সালের শেষের দিকে। কি কি কাজ করা যায় আউটসোর্সিংয়ে , কিভাবে কাজ পাওয়া যেতে পারে, পেমেন্ট কিভাবে হবে, সবগুলো বিষয় আস্তে আস্তে বুঝতে থাকেন। এভাবেই যুক্ত হন আউটসোর্সিং এ।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বেসিস কর্তৃক সেরা ফ্রিল্যান্সার অ্যাওয়ার্ড।
পরিশেষে, এই দশ জনকে আমরা একটি ছোট অনুরোধ করতে চাই। আপনারা যদি আপনাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাটুকু আমাদের ব্লগে পোস্ট করেন, তাহলে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে উপকৃত হবে। তাদের ধারনা পরিষ্কার হবে। নতুনরা আরো উৎসাহিত হবে। দেশের মানুষের উপকার হবে। আপনাদের লেখাগুলো আমরা এই পৃষ্ঠার সাথে লিংক করে দেবো। অভিনন্দন সবাইকে।

 Collection from ..............http://tech.priyo.com/review/top-10/2011/freelancer.html

No comments:

Post a Comment